আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতের বাইরে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির দায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড জানান, ক্ষতিপূরণের মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে।
বাকি অর্থ আগামী পাঁচ বছরে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং সেবা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ব্যবহার করা হবে।
গত মার্চে মেটার বিরুদ্ধে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হলো।
সে সময় জুরি বোর্ড রায় দেন, মেটা জেনেশুনেই তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে দিয়েছে এবং শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আরোপ করা হয়।
মেটার প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করে দেওয়া এটিই ছিল প্রথম রায়। এ মামলার সূত্রপাত হয়েছিল গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর, যেখানে উঠে আসে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু পাচার ও যৌন শোষণের বাজারে পরিণত হয়েছিল।
মামলার দ্বিতীয় ধাপে প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে মেটার প্ল্যাটফর্মে মৌলিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। এর মধ্যে ছিল আসক্তি তৈরিকারী ফিচার নিয়ন্ত্রণ, বয়স যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ডিফল্ট প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণ প্রতিরোধ এবং আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা।
বিচারক আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন ব্যানার ও তথ্যপর্দা যুক্ত করতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা ফিচার, নিরাপদ ব্যবহারের নির্দেশনা এবং অনুপযুক্ত মন্তব্য মোকাবিলার বিভিন্ন টুল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকবে।
এছাড়া নিউ মেক্সিকোতে পরিচালিত শিক্ষামূলক প্রচারাভিযান এবং এসব পরিবর্তনের বাস্তবায়ন রাজ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পর্যালোচনা করা হবে।
তবে আদালতের এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে মেটা। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। ক্ষতিকর ব্যক্তি ও কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সবসময় স্বচ্ছ থেকেছি। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available