আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এর মধ্যেই ৩১ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন মোদি।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। আমাকে গালি দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে ওই নারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় মামলা করা হয়।
তবে ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে এমন ঘটনার সমাধান রাগ বা প্রতিশোধের মাধ্যমে সম্ভব। বরং তরুণদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘শৈশবে ভুল হয়, আর সেই সময়ই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে। সমাজে ক্ষোভ আছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের শাস্তি দেয়া, আদালতে টেনে নেয়া বা হয়রানি করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গালিগালাজ করে কোনো কিছুর সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের পথ দেখাই, একসঙ্গে ভারতের জন্য কাজ করি।’
মোদি আরও জানান, যারা তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করতে চান এবং সমাজকেও একই আহ্বান জানান।
এদিকে, নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় প্রথমে একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যের জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়।
সূত্র: এনডিটিভি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available