আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বাহিনীকে মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব। লন্ডন যদিও এখনও চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি, তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সৌদির এ অনুরোধ বিবেচনাধীনে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা বলছে, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করলেও এ প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যে ইতিবাচক সাড়া দেবেন— তার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এমনকি সৌদিদের পরামর্শ বিষয়ক সহযোগিতা দিতে নিজের কয়েকজন সামরিক উপদেষ্টাকে রিয়াদে পাঠাতে পারেন বার্নহ্যাম।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘাতের এক পর্যায়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা, যা সৌদি আরবকে বড় ধরনের বেকায়দায় ফেলে দেয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চলার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেল রপ্তানির জন্য গত প্রায় সাত মাস ধরে বিকল্প পথ হিসেবে এই প্রণালি ব্যবহার করছে সৌদি আরব।
৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে হুথি যোদ্ধাদের দখল থেকে উদ্ধার করতে কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের কাছে সৌদির সহযোগিতা চাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর থেকে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ছে ব্রিটেনে এবং তার জেরে চাপে আছে অ্যান্ডি বার্নাহামের নেতৃত্বাধীন সরকার। যদি পরিস্থিতিতে পরিবর্তন না আসে, তাহলে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে এবং দেশটির অর্থনীতিতে গুরুতর আঘাত আসবে।
বাব এল-মান্দেব জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।
হুথি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি দখলের পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর তাদের দমন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিমান অভিযান বিষয়ক সহযোগিতা চেয়েছিলেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এই মুহূর্তে হুথিদের দমন করতে অভিযান পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই যুক্তরাষ্ট্র, তবে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পরামর্শ সহায়তা দিতে পারবে।
সূত্র : মিডলইস্ট আই
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available