আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর পড়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের দিকে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ চীনা রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমানোর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


গত ৪ জানুয়ারি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটি এখন অত্যন্ত কৌশলগত। চারদিকে রুশ ও চীনা জাহাজ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, আর ডেনমার্ক তা সামাল দিতে পারবে না।’
এর একদিন পর হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিকভাবে কেউ লড়াই করবে না।’
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন গ্রিনল্যান্ড চাওয়ার বিষয়টি সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করেন, তা শুধু ভুল নয়, বরং অসম্মানজনক।’
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আরেকটি ন্যাটোভুক্ত দেশে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু থেমে যাবে— ন্যাটোও এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’
এদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের নেতারা আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই।’ সূত্র: সিএনএন
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available