অনলাইন ডেস্ক: শীতকালীন বায়ু দূষণ মোকাবেলায় ভারতের দিল্লি-এনসিআর অঞ্চল জুড়ে কঠোর নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে ধোঁয়াশা কমাতে এবং বায়ুর গুণমান উন্নত করতে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আজকের, মানে ১ নভেম্বর দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ‘অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজ সকালের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সামগ্রিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বিভিন্ন এলাকায় ২৪৮ থেকে ৩৮১-এর মধ্যে ওঠানামা করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। শীতকালে এ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।
তাই শীতকালীন বায়ুদূষণ মোকাবেলায় আজ ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এ নিয়ম বহাল থাকবে। আগামী মাসগুলোতে ধোঁয়াশা কমাতে এবং বাতাসের গুণগত মান উন্নত করতে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়েছে।
দিল্লির বর্তমান আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক এবং শান্ত। শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তাপমাত্রার বিপরীতমুখী অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ধোঁয়া, ধূলিকণা এবং গাড়ির ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসের ওপরের স্তরে মিলিয়ে যেতে না পেরে চাদরের মতো দিল্লির আকাশকে ঢেকে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির এই তীব্র দূষণের প্রায় ৪১ ভাগ আসছে অতিরিক্ত যানবাহন নির্গমন থেকে। পাশাপাশি ধুলোবালি (২১.৫ ভাগ), শিল্প-কারখানার ধোঁয়া (১৮.৬ ভাগ) এবং দিল্লির আশেপাশের রাজ্যগুলোতে শুরু হওয়া ফসলের অবশিষ্টাংশ বা খড় পোড়ানো পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
দূষিত বাতাসের কারণে বাসিন্দাদের চোখ, বুক এবং গলায় জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অ্যাজমা রোগীদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বায়ুমান রক্ষায় দিল্লির মুখমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ, বাসা থেকে কাজ করা, নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।
দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে না, সেগুলোর জাতীয় রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ এবং গাজিয়াবাদের মতো প্রতিবেশী এলাকা থেকে আসা আনুমানিক ১০ লাখ পুরোনো পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে বৈদ্যুতিক যানবাহন, সিএনজিচালিত যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের মতো জরুরি পরিবহনগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ধূলিকণা তৈরি করে এমন সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ এবং ঘরের বাইরের নির্মাণ কার্যক্রম ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে কিছু নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় জনমুখী অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে। ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণ মানদণ্ড মেনে ঘরের ভেতরের ফিনিশিং, প্লাম্বিং এবং ইলেকট্রনিক্সের কাজ এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোকে তাদের অর্ধেক কর্মী সশরীরে অফিসে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
যানজটের চাপ কমাতে বিভিন্ন নাগরিক সংস্থার অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিসগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
অন্যদিকে দিল্লি সরকারের অফিসগুলো সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে অনেক পাবলিক লটে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং সুবিধাগুলো এই ফি বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘নো পিইউসি (পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকিটে), নো ফুয়েল’ নীতি কার্যকর করা হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য দিল্লির ৫০০টি পেট্রোল পাম্পে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা গাড়ির নম্বর প্লেট ও তথ্য স্ক্যান করবে। যদি কোনো যানবাহনের পিইউসি সার্টিফিকেট বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ অবৈধ পাওয়া যায়; তবে পাম্প অপারেটর পেট্রল, ডিজেল বা সিএনজি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম, অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা এবং একটি এআই-চালিত ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার নিয়োজিত থাকবে। নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ই-চালান ইস্যু করা হবে।
প্রতিবেশী শহর এবং দিল্লির মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের তাদের যানবাহনের নির্গমন মানদণ্ড পরীক্ষা করার এবং ভারী জরিমানা বা সীমান্ত চেকপয়েন্ট থেকে ফেরত পাঠানো এড়াতে আগে থেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও বাসিন্দাদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। নিয়মিত আপডেটের জন্য যাত্রীদের দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলগুলো চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
এটিভি/এসটিও
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available