আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ৫টি প্রদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হলো।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে জানান, গত ৮ ও ৯ জুলাই (বুধ ও বৃহস্পতিবার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৫টি প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালায়।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী— হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আহভাজের কাছে একটি হামলায় তিনজন নিহত হন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার পর এই উত্তেজনা চরম রূপ নেয়। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের দক্ষিণ উপকূল বরাবর সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক হামলা চালায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দুই দিনে চালানো এই অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, নৌ সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর আর কোনো হামলা প্রতিরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী হামলার জবাবে ইরানও চুপ করে থাকেনি। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
নিজেদের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল।
তবে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই সমঝোতা স্মারকটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে কার্যকরভাবে চুক্তিটির অবসান ঘটে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতের একটি নতুন ও বিপজ্জনক পর্বের সূচনা হলো।
সূত্র: আনাদুলু
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available