• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ সকাল ১০:৩৯:৩৫ (12-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

তিন লাল কার্ডে সূচনা হলো বিশ্বকাপের

১২ জুন ২০২৬ সকাল ০৮:০৩:১৪

তিন লাল কার্ডে সূচনা হলো বিশ্বকাপের

স্পোর্টস ডেস্ক: কথায় আছে, ‘সকাল দেখেই বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে।’ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পর সেই প্রবাদই যেন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেছে তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া তিনটি লাল কার্ড।

বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৬৪ ম্যাচে মোট লাল কার্ড ছিল মাত্র চারটি। একই সংখ্যক লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল তিনটি লাল কার্ড। ফলে টুর্নামেন্ট শেষ পর্যন্ত এক আসরে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড ভাঙবে কি না, সেই প্রশ্ন ইতোমধ্যে ফুটবল অঙ্গনে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।

উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জেওয়ানে লাল কার্ড দেখেন। পরে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর মাধ্যমে ১৯৯০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গড়া রেকর্ড ভেঙে যায়। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানো ক্যামেরুনের আন্দ্রে কানা-বিয়িক ও বেঞ্জামিন ম্যাসিং লাল কার্ড দেখেছিলেন। এতদিন উদ্বোধনী ম্যাচে সর্বোচ্চ দুই লাল কার্ডের রেকর্ডটি ছিল সেই ম্যাচের দখলে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় লাল কার্ড নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। থেম্বা জেওয়ানে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাদোর সঙ্গে বলের দখল নিয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে ভিএআরের সহায়তায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস সিদ্ধান্তটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার দাবি, মেক্সিকোর খেলোয়াড়ই আগে বাধা দিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি লাল কার্ডের পর্যায়ে পড়ত না। যদিও শেষ পর্যন্ত রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি লাল কার্ডের ঘটনা খুব বেশি নয়। ১৯৩৮ সালের ‘ব্যাটল অব বোর্দো’, ১৯৫৪ সালের ‘ব্যাটল অব বার্ন’, ১৯৯৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা-ডেনমার্ক ম্যাচ, ২০০৬ সালের ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে তিনটি করে লাল কার্ড দেখা যায়।

তবে লাল কার্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ নিঃসন্দেহে ২০০৬ বিশ্বকাপের ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’। নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের সেই উত্তপ্ত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রেফারি চারটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন, যা এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড।

২০০৬ বিশ্বকাপই ছিল লাল কার্ডের দিক থেকে সবচেয়ে কঠোর আসর। পুরো টুর্নামেন্টে দেখা গিয়েছিল ২৮টি লাল কার্ড, যা এখনও এক আসরে সর্বোচ্চ।

২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আরও একটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। তিনটি লাল কার্ডই ছিল সরাসরি লাল কার্ড; কোনো খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে বহিষ্কৃত হননি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কার্ড ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড় সরাসরি লাল কার্ড দেখলেন।

ফলে বিশ্বকাপের মাত্র প্রথম ম্যাচ শেষ হলেও শৃঙ্খলা, রেফারিং এবং খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনী ম্যাচের এই ‘লাল ঝড়’ কি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অব্যাহত থাকে, নাকি এটি কেবলই এক ব্যতিক্রমী সূচনা হয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়।

সূত্র: ফিফা, ইএসপিএন এফসি
 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us