• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:১৭:৩৭ (15-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৩:২৪

বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, যার শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য এ সহায়তা সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।

১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার (এসএলআইপি) কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফ যৌথভাবে কর্মশালাটি আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই বৃত্তি-উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে, ওই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সেই সঙ্গে যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারের সীমিত সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াই দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো বাধার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হয়। তাই সাঁতারকে শুধু ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাকে নিজের জীবন রক্ষা করার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সূত্র: ইউএনবি

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ







শচীনের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন টেলর
শচীনের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন টেলর
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৪:৩২



হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি
হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:১২:১৪