নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সরকারি তিতুমীর কলেজে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬’।
৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীর এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এলায়েন্স-প্রত্যাশীর যৌথ আয়োজনে কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। এতে তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রত্যাশীর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ড. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের উপদেষ্টা আদনান আজাদ।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বন বিভাগের কনজারভেটর অব ফরেস্ট মো. সানাউল্লাহ পাটওয়ারী এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ. বি. এম. সারওয়ার আলম দীপুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক আদনান আজাদ বলেন, বাঘ সংরক্ষণের পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনসহ দেশের বনাঞ্চল রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বন না থাকলে বাঘও টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হরিণ, সাপ, বন্য শূকর, মাছসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তরুণদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বন বিভাগের কনজারভেটর অব ফরেস্ট মো. সানাউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, জনসংখ্যার চাপের কারণে বাংলাদেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। সংবিধানেও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যার মানসিকতা থেকে দেশের মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। একসময় দেশে বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি থাকলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী নয়, আশপাশের উদ্ভিদ ও প্রকৃতিকেও টিকিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশকে আরও স্বাবলম্বী করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available