ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
১০ জুন বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) অর্থায়নে ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচএনপিএডিপি)’ বাস্তবায়নের জন্য এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) বা সমপরিমাণ ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
এর মধ্যে ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট’ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো সারাদেশে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যকারিতা উন্নয়ন।
অন্যদিকে, ‘ক্লাইমেট রেসপনসিভ রিপ্রোডাকটিভ হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট ফর রেজাল্টস’ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবার গুণগত সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও সমতা বৃদ্ধি করা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য থাকবে।
তবে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে চলতি অর্থবছরসহ এ কমিটমেন্ট ফি আদায় থেকে বিরত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: বাসস।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available