অনলাইন ডেস্ক: ডলারের দরপতন, ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশাবাদে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এতে প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মূল্যবান এই ধাতু।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ।
এর আগের দিন স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বড় দৈনিক উল্লম্ফন দেখেছিল। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিন মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ইল্ড কমেছে। একই সঙ্গে চাপের মুখে ছিল মার্কিন ডলার সূচকও। ডলারের দর কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে যায়, যা চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়েও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে।
রয়টার্সকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন সূত্র এবং অঞ্চলের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে বড় ছাড়গুলোর একটি।
ইরান ইস্যুতে আশাবাদ বাড়ায় আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে; এমন প্রত্যাশাও কমেছে। দুই দিন আগে যেখানে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ ধরা হচ্ছিল, এখন তা নেমে এসেছে ৫৫ শতাংশে। সাধারণত কম সুদের হারের পরিবেশে স্বর্ণের দাম বাড়ে, কারণ স্বর্ণে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
তবে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি মুদ্রাস্ফীতির চাপ অতিরিক্ত পর্যায়ে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য জুলাই মাসের মার্কিন নন-ফার্ম পে-রোলস প্রতিবেদনের দিকে। এর আগে বুধবার প্রকাশিত এডিপির জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমেছে। জুনে সংশোধিত হিসাবে যেখানে ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, জুলাইয়ে তা নেমে এসেছে ৪৪ হাজারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫০ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available