• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১২ই ভাদ্র ১৪৩৩ রাত ১০:০৮:৩৫ (27-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত মজনুর চোখে শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ

২৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:২১:০৬

গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত মজনুর চোখে শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পা পচে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষত, টাকার অভাবে চিকিৎসাহীন মজনুর বাঁচার আকুতি, যে পায়ে ঘুরেছে সংসারের চাকা, সেই পা-ই আজ পচে কাঁদাচ্ছে মজনুকে। একদিন পরিবারের অন্ন জোগাতে দিনভর ছুটেছে, সেই দুই পা আজ গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে পচে যাচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ৯ নং সুটিয়াকাটি ইউনিয়নের বালীহারি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মজনু মিয়া। অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর পায়ের ক্ষত এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পচন ছড়িয়ে পড়ছে ওপরের দিকে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার না হলে তাঁর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জরাজীর্ণ একটি ঘরের বারান্দায় বিছানায় পড়ে আছেন মজনু মিয়া। একসময় যিনি দিনমজুরি করে স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূর সংসারের হাল ধরেছিলেন, আজ তিনি নিজের শরীরটাকেই সামলাতে পারেন না। পায়ের তীব্র ব্যথা ও ক্ষতের কারণে একা উঠে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কয়েক পা হাঁটার শক্তিও নেই। অন্যের সাহায্য নিয়ে কোনোমতে বসতে হয় তাঁকে।

দিন-রাত কাটে যন্ত্রণায়। রাত নামলেই যেন কষ্ট আরও বেড়ে যায়। ব্যথায় ছটফট করতে করতে কখনো কখনো মৃত্যুর কথাও মনে হয়। কিন্তু নিজের মৃত্যুর চেয়েও তাঁকে বেশি কাঁদায় পরিবারের ভবিষ্যতের চিন্তা।

মজনু মিয়া বলেন, “মরতে ভয় পাই না। ভয় পাই, আমার অসুখের কারণে পরিবারটা কী খাইয়া বাঁচবে। এই পা দিয়া কত বছর কাম করছি, সংসার চালাইছি। এখন পা-ই আমারে শেষ কইরা দিতেছে। টাকার অভাবে ঠিকমতো ওষুধ খাইতে পারি না। এখন ঘরে কোনো ওষুধও নাই।”

একসময় দিনমজুরি করেই কোনোভাবে চলত ৪ সদস্যের সংসার। অসুস্থ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর কাজ। চিকিৎসার পেছনে ঘরে থাকা সামান্য সঞ্চয়ও শেষ। এখন দুবেলা খাবার জোটানোই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ব্যয় যেন পরিবারের কাছে অকল্পনীয়। কখনো কারও কাছ থেকে সামান্য সাহায্য মিললে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে খান; স্বামীর এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মজনু মিয়ার স্ত্রী। স্ত্রীকে ধরে কোনোমতে বসিয়ে তিনি বলেন, “মুই খুব অসহায়। কয়েক মাস ধইরা বিছানায় ছটফট করি। মোরে আপনারা সাহায্য করেন। নইলে মোর পা থাকবে না, মুই বাঁচমু না। ১০ বছরে কোনো সরকারি সাহায্য আমার ভাগ্যে জোটে নাই।”

পরিবারটির ঘরটিও যেন তাদের অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি। ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ ঘর, নেই সঞ্চয়, নেই স্থায়ী আয়ের কোনো ব্যবস্থা। বৃদ্ধ মজনু মিয়া এখন সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। স্ত্রী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ছেলে ও পুত্রবধূরও তেমন আয়-রোজগার নেই। ফলে রোগের যন্ত্রণা আর অভাব—দুটিই যেন একসঙ্গে চেপে বসেছে পরিবারটির ওপর।

মজনু মিয়ার পায়ের ক্ষত দিন দিন ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার দ্রুত না হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মজনু মিয়ার এখন একটাই আকুতি—কেউ যদি তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর কণ্ঠে মৃত্যুর ভয় নেই, আছে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা।

তিনি জানেন, তাঁর উপার্জন বন্ধ মানেই স্ত্রী-সন্তানদের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা।

“আমি না থাকলে আমার বউ-ছেলেমেয়েরা কী খাইয়া বাঁচবে?”—এই প্রশ্নটিই যেন বারবার ফিরে আসে তাঁর কণ্ঠে।
মজনু মিয়ার এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারা এক দরিদ্র মানুষের নির্মম বাস্তবতা। তাঁর চিকিৎসার জন্য এখন প্রয়োজন দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও মানবিক উদ্যোগ। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসীসহ সামর্থ্যবান মানুষগুলো এগিয়ে এলে হয়তো এখনো বাঁচার সুযোগ আছে এই অসহায় মানুষটির।

জীবনের শেষ অধ্যায়টি যন্ত্রণায় নয়, চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তিতে শেষ করতে চান মজনু মিয়া। সমাজের সহৃদয় মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে তাই তাঁর পরিবার—একটু সহযোগিতাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একজন অসহায় মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকু। মজনু বারাকান্ত মনে বলেন, মরতে ভয় পাই না, ভয় পায়ে গ্যাংগ্রিনে রোগে হয়তো আমি মারা যাবো কিন্তু পরিবারটা কী খাইয়া বাঁচবে’!

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
২৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৯:২৮:১৯





কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে জরিমানা
কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে জরিমানা
২৭ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৮:৪০