গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামে চার শতাধিক জামাতাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘জামাই ইফতার’।
২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নয়াদিয়াড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়, যেখানে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের সঙ্গে জামাতাদের আগমন ঘটে।


আয়োজকেরা জানান, ২০২২ সাল থেকে জামাতাদের সম্মান জানানো এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম বছরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল শতাধিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাড়া বাড়তে থাকায় এবার প্রায় ৫ শতাধিক জামাতা ইফতারে অংশ নেন। গ্রামের প্রবাসী জামাতাদের মধ্যেও অনেকে ছুটিতে এসে অংশ নেন।

দেশ-জাতির কল্যাণ, গ্রামের শান্তি-সম্প্রীতি ও সবার সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর খেজুর, ফল, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি, জিলাপি, শরবতসহ নানা খাবার পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় নারীদের একটি অংশ নিজ উদ্যোগে খাবার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেন।
গ্রামের প্রবীণরা জানিয়েছেন, গ্রামীণ সমাজে জামাতাদের বিশেষ সম্মান দেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। তবে একত্রে শত শত জামাতাকে নিয়ে ইফতার আয়োজন করা সত্যিই ব্যতিক্রমী। এতে পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও জোরদার হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের মধ্যে সংগঠন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, আধুনিক সময়ে ব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে আত্মীয়তার বন্ধন কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই বন্ধনকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। নয়াদিয়াড়ীর ‘জামাই ইফতার’ তাই এখন শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং সামাজিক ঐক্য ও পারিবারিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইফতারে শ্বশুরের সঙ্গে অংশ নেওয়া আব্দুল আলিম বলেন, ‘এই আয়োজনের কারণে বহুদিন পর আমরা একসঙ্গে বসতে পেরেছি। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য ঈদের আনন্দের মতো।’
আরেক জামাতা রুবেল আলী বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন খুবই বিরল। শুধু ইফতার নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন গড়ে তোলে। কারও সঙ্গে মনোমালিন্য থাকলেও এমন মিলনমেলায় তা অনেকটাই দূর হয়ে যায়।’
জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির প্রধান সোহেল রানা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল জামাতাদের সম্মান জানানো এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা। এখন এটি শুধু ইফতার নয়, বরং পুরো গ্রামের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হচ্ছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available