পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর দুটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এবং হাসপাতালের ব্যবহৃত স্যালাইনের খালি প্যাকেট পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বা রিসাইকেলিং করে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের প্লাস্টিক গ্র্যানুল। এসব কাঁচামাল রপ্তানি হচ্ছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন এলাকা—ফেরিওয়ালা ও বর্জ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন সংগ্রহ করেন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, পানীয়ের বোতল এবং হাসপাতালের ব্যবহৃত স্যালাইনের খালি প্যাকেট। একসময় এসব বর্জ্যের বেশিরভাগই যত্রতত্র পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণের কারণ হতো। এখন সেই বর্জ্যই পৌঁছে যাচ্ছে স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানায়।
কারখানায় প্রথমে দক্ষ শ্রমিকরা প্লাস্টিকের ধরন অনুযায়ী আলাদা করে বাছাই করেন। এরপর ধোয়া, শুকানো, কুচি করা এবং বিশেষ প্রযুক্তির যন্ত্রে উচ্চ তাপমাত্রায় গলিয়ে তৈরি করা হয় প্লাস্টিক গ্র্যানুল বা প্যালেট। এই গ্র্যানুল নতুন প্লাস্টিক বোতল, শিল্পপণ্য ও বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে দেশে এই গ্র্যানুল ব্যবহার করে বৃহৎ পরিসরে নতুন প্লাস্টিক বোতল উৎপাদনের সক্ষমতা সীমিত। ফলে উৎপাদিত গ্র্যানুল ঢাকার রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। স্থানীয় ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে যদি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক কারখানা গড়ে ওঠে, তাহলে কাঁচামালের পরিবর্তে প্রস্তুত পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই নয়, এই শিল্প পরিবেশ সংরক্ষণেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃব্যবহারের ফলে কমছে মাটি, নদী ও খালের দূষণ। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছে বহু মানুষের কর্মসংস্থান।
দিনমজুর আকলিমা বলেন, "আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য বাছাই করে পরিষ্কার করি এবং মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করি। এই কাজের মাধ্যমে আমাদের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
"আগে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি করত। এখন এগুলো থেকেই মূল্যবান কাঁচামাল তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত হোক।"
প্লাস্টিক কারখার মালিক আমিনুল বলেন, "বিদেশে আমাদের উৎপাদিত গ্র্যানুলের চাহিদা রয়েছে। তবে দেশে যদি আধুনিক প্রযুক্তি, সহজ ঋণ এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ে, তাহলে এখানেই প্রস্তুত প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।"
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available