• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৬ই ভাদ্র ১৪৩৩ সকাল ১১:৩৬:১৩ (31-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন সূত্র, আলোচনায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম

৩১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:০৫:১৭

সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন সূত্র, আলোচনায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম

ডেস্ক রিপোর্ট: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের তদন্তে নতুন কিছু সূত্রের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একটি গুমের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুমের মামলার তদন্তের সময় এসব তথ্য সামনে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওই তদন্তের অংশ হিসেবে একটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করেন তদন্তকারীরা।

সিডিআর বিশ্লেষণ করে তারা এক সেনা সার্জেন্টের সন্ধান পান। পরে ওই সার্জেন্টকে নজরদারিতে রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রত্যাশিতভাবে সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এর ফলে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা এ মামলার তদন্তে নতুন একটি সূত্র তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা ডেইলি ওয়াদাকে বলেন, সাংবাদিক দম্পতি হত্যার কিছুদিন আগে জিয়াউল আহসান ওই সেনা সার্জেন্টকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন।

ওই তদন্তকারী বলেন, ‘২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ সাগর-রুনি হত্যার ঠিক দুই দিন আগে, সাবেক মেজর (অব.) জিয়াউল আহসান ওই সার্জেন্টকে ডেকে পাঠান। জিয়াউল আহসান তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে পারে। প্রস্তুত থাকুন।’

তদন্তকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনই জিয়াউল আহসান সার্জেন্টকে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেন।

পরে ওই সার্জেন্ট জিয়াউল আহসানের নির্দেশ অনুযায়ী রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক সংগ্রহ করেন বলে তদন্তকারী জানান। তিনি আরও বলেন, জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

এখন ওই দুটি ডিস্কের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর সাগর ও রুনির দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মোবাইল ফোন নিখোঁজ হয়ে যায়।

তবে রুনির মোবাইল ফোন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালংকার তাদের বাসায় অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল।

এদিকে প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ৩০ আগস্ট রোববার প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন, অন্য একটি মামলার তদন্তে সিডিআর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলার সঙ্গে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, সিডিআর পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমরা একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনি ঘটনার একটি যোগসূত্র পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। ট্রাইব্যুনালের তদন্তে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সহযোগিতা পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে।

প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা একটি পৃথক ফৌজদারি মামলা। ফলে এর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত নয়। প্রচলিত ফৌজদারি আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই এ মামলার বিচার হবে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তার স্ত্রী মেহেরুন রুনিকে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়।

প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব)।

বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স ও পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।

হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থাগুলো।

সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ১২৯তমবারের মতো বাড়িয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
৩১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১:৩০:৩১