অনলাইন ডেস্ক: ‘বড় ছল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছলটা বলত— মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল... বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো। হামার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হলো বাবা হামার!’— এভাবেই আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবের রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তান হারানো মা ময়না বিবি।
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৯ আগস্ট রোববার দুপুর ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো আত্রাই জুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে। সোমবার সকালে গন্ডগোহালী গ্রামসহ নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের বুকফাটে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।
নিহত দুই ভাই মোহন প্রামানিক (৩৮) ও সুমন প্রামানিকের (২৮) মা ময়না বিবি জানান, ঘটনার দিন সকালেও মেজো ছেলে সুমনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ছেলে বলেছিল, 'ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও। সুস্থ থাকো।' কিন্তু কে জানত সেটাই হবে শেষ কথা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, কারখানায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস সময়মতো না পৌঁছানোয় ছেলে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলেছিল— ‘মারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’ নিহত মোহন প্রবাসে যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল, ‘এসে বিয়ে করবো মা— মেয়ে-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।’ সেই স্বপ্ন আজ চিরতরে পুড়েই ছাই হয়ে গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন— পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৩৮), ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে সুমন হোসেন (৩৩), সোহেল রানা (৪১) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৮). গন্ডগোহালী গ্রামের গফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামানিক (৩৮) ও সুমন প্রামানিক (২৮), একই গ্রামের জান্নাত আলীর ছেলে রুবেল হোসেন (২৮), ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলিম উদ্দিন প্রামানিক (১৯), সাতনগর গ্রামের সাগর হোসেন (২১), উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩৬), মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মজিদুল ইসলাম (৩৫), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ হোসেন (২১), খরসতি গ্রামের মহিদুল ইসলাম (৩৯)।
এছাড়াও একই কারখানায় কর্মরত নাটোরের আরও তিনজন যুবক এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, আগুনে পুড়ে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রবাসের মাটিতে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। প্রিয়জনদের মরদেহ দ্রুত দেশে দেখতে চান শোকাহত পরিবারগুলো।
সূত্র: নিউজ ২৪
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available