• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১লা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ দুপুর ১২:২৭:২৪ (15-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংস্কারে অর্থায়নে আগ্রহী জাইকা

১৫ মে ২০২৬ সকাল ১১:০৭:৪৩

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংস্কারে অর্থায়নে আগ্রহী জাইকা

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট (৪ ও ৫) সংস্কারে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে জাইকার একাধিক প্রতিনিধি দল কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।

Ad
Ad

বিপিডিবি সূত্রে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ক্রয় প্রক্রিয়াজনিত জটিলতার কারণে সাত বছরের বেশি সময় ধরে ইউনিট দুটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রম আটকে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Ad

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান জানান, ‘দুটি ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ ওভারহল প্রয়োজন।’

নথি অনুযায়ী, ইউনিট-৪ সর্বশেষ সংস্কার করা হয় ২০১০ সালের জুনে এবং ইউনিট-৫ সংস্কার করা হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর পর বড় ধরনের ওভারহল প্রয়োজন হলেও তা সময়মতো করা হয়নি।

বর্তমানে প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট হলেও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে। এতে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ইউনিট দুটির জেনারেটর ধারণকারী ধাতব কাঠামোয় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে এগুলো চালু রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিট বন্ধ করে ওয়েল্ডিং ও মেরামত কাজ করতে হয়।

জাপানি প্রতিষ্ঠান তোশিবার একটি বিশেষজ্ঞ দল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি–মার্চে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া ইউনিট দুটি চালু রাখলে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিল।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে সংস্কার উদ্যোগ শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও একক সরবরাহকারীর কারণে তা একাধিকবার ব্যর্থ হয়। ফলে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

বিপিডিবির প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ডেইজি পারভীন বলেন, ‘জাইকা মিশন বৈঠকে ইউনিট দুটি সংস্কারে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। একটি টিম ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় কাজ নির্ধারণ করে ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ চলছে।’

কর্মকর্তারা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎস। উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম—কখনও কখনও এক ইউনিট বিদ্যুতের ব্যয় এক টাকার নিচে নেমে আসে।

১৯৬২ সালে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটির বর্তমান মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us