অনলাইন ডেস্ক: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাইভেটকারে করে মুমূর্ষু গৃহবধূ শাহিনা বেগমকে (২২) হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে তাকে মৃত ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন ওই নারীর স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
১০ বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্স (সমাজ বিজ্ঞান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
পুলিশ ও পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থা স্ত্রী শাহিনাকে নিয়ে হাসপাতালে যান। পরে চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষার পর শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে দ্রুত বেপরোয়াগতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে আটকাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ পলাশবাড়ি থানায় নেয় পুলিশ। সিয়াম-শাহিনা কয়েক বছর আগে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পর সিয়াম তার এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পলাশবাড়ি থানা পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডল জানান, ডাক্তার ওই নারীকে মৃত বলার সঙ্গে সঙ্গে তার (সিয়াম) গতিবিধিতে উপস্থিত সবার সন্দেহ হয়। পরে প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত পালান তিনি।
হাসপাতালে থাকা নিহত শাহিনার মা রহিমা বেগমের অভিযোগ, জামাই সিয়াম তার মেয়ে শাহিনাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে গেছে। তিনি দাবি করেন, সিয়াম একজন মাদকাসক্ত যুবক। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন। বৃহস্পতিবারও শাহিনাকে মারপিট করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই অভিযোগ তুলে শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমার বলেন, প্রেম করে পালিয়ে শাহিনাকে বিয়ে করেন সিয়াম। দাম্পত্য জীবনে তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন সিয়াম। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছিল কিন্তু সমাধান মেলেনি। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন তিনি।
এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছিল শাহিনার। মৃতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানো অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে পূর্বের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গলাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ফাঁস নিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইত্তেফাক
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available