ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জরুরি অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় ১৫ জন সক্রিয় সদস্যের মধ্যে ৯ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভাটি পরিচালনা করেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি চলছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক প্রতিনিধিরা সভাটি বর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ মোট সদস্যপদ ১৭টি। এর মধ্যে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে সক্রিয় সদস্য ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন ছয়জন, আর অনুপস্থিত ছিলেন নয়জন। উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ছয় সদস্যের কেউ সভায় যোগ দেননি।
সিন্ডিকেটের সদস্য এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বিডিনিউজ২৪-কে বলেন, তিনি ছুটিতে থাকায় এবং পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করায় সভায় যোগ দিতে পারেননি। উপাচার্য হোয়াটসঅ্যাপে জুম সভার সংযোগ পাঠিয়ে বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ভিসিকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের
অধ্যাপক রাশিদুল হাসান আরও বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এর আগে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির তার জানা নেই।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে গত ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে যান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেন। এতে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহায়তায় তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই শুক্রবার অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে সভার আলোচ্যসূচি ও তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
তিনি জানান, সভার মূল আলোচ্যসূচি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যালোচনা করে একাডেমিক অচলাবস্থা দূর করা এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর রূপরেখা নির্ধারণ।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সেশনজটের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্রুত নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করবে।
এ ছাড়া অচলাবস্থা নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available