• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৭শে পৌষ ১৪৩২ ভোর ০৫:৫১:৫৭ (11-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

সনদ জাল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে বেরোবিকে ইউজিসির চিঠি

৯ জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৪:১২:৪০

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে বেরোবিকে ইউজিসির চিঠি

বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

Ad

৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বেরোবি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।

Ad
Ad

চিঠিতে বলা হয়, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের গৃহীত সিদ্ধান্ত কমিশনে পাঠাতে হবে। অভিযোগে শিক্ষক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত সনদ জাল করে চাকরি গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তার শিক্ষাগত সনদ পাঠানো হয়। বোর্ড জানায়, ইউসুফ দাখিল করা এইচএসসি সনদ তাদের সংরক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না। জমা দেওয়া সনদে তার জিপিএ ৩.০১ দেখানো হলেও বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত জিপিএ ছিল ২.৯০।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক যেকোনো একটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪ থাকতে হয়। কিন্তু ইউসুফ এসএসসিতে জিপিএ ৩.৫০ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৩.০১ (প্রকৃতপক্ষে ২.৯০) পাওয়ায় তিনি কোনোভাবেই ওই শর্ত পূরণ করেননি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি বা এইচএসসিতে ন্যূনতম ‘এ’ গ্রেড থাকার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। তবুও সব শর্ত অমান্য করে ইউসুফ নিয়োগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্ল্যানিং কমিটি গঠন করা হয়নি। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট তার নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও তা চ্যান্সেলরকে অবহিত করা হয়নি। সেই সুযোগে ইউসুফ হাইকোর্টে রিট করে রায় নিয়ে পুনরায় নিয়োগ কার্যকর করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আপিলও করেনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি স্থায়ী প্রভাষক পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তিনজনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা ‘একটি পদ’-এর ‘এক’ শব্দটি কলম দিয়ে কেটে হাতে লেখা হয় ‘তিন’। সুপারিশকৃত তালিকায় ইউসুফের নাম প্রথমে থাকলেও তার নামের পাশে রহস্যজনকভাবে ‘ক্রমিক নম্বর ২’ লেখা হয়।

সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সহায়তায় ফলাফল জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us