হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮.৫৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা এর নেতৃত্বে এবং প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির এর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেন।


কালো ব্যাচ ধারণ শেষে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে প্রভাত ফেরি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এ সময় সাথে ছিলেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা, এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর ডিন কাউন্সিল, হল সুপার কাউন্সিল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, সাদা দল, অফিসার্স ফোরাম, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনসিসি, জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদসহ বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাইস-চ্যান্সেলরের বাণী বিতরণ ও পাঠ করা হয়। বাণীতে প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাতৃভাষার জন্য জীবন বিসর্জন মানব ইতিহাসে বিরল ঘটনা, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য প্রেরণার উৎস। পাশাপাশি তিনি বর্তমান প্রজন্মকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বাণী পাঠ শেষে সকাল ১০.১০ মিনিটে টিএসসি প্রাঙ্গণে শিশুদের বাংলা বর্ণমালা লেখা প্রতিযোগিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য “একুশের চেতনা ও গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” বিষয়ক লিখিত রচনা, আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রধান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাদ আছর কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহীদ ও সকল শহিদগণের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available