অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যতই জোরালো হচ্ছে, ততই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন খাইরুল দেওয়ান। বিভিন্ন সময়ে রাজপথে ব্যতিক্রমধর্মী বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এবং নানা কর্মসূচির কারণে আগে থেকেই নেটিজেনদের কাছে পরিচিত এই ব্যক্তি এবারও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি পদে কাকে দেখতে চান- এমন প্রশ্নে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তাদের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। সেখানে মন্তব্যের ঘরে বিএনপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতার নামের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও হাস্যরসের ছলে খাইরুল দেওয়ানের নামও উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এছাড়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্যও রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি জনমত জরিপ চালু করেন। সেখানে প্রশ্ন রাখা হয়, ‘চব্বিশের পরে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে মানানসই কে?’ সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ ভোট পান খাইরুল দেওয়ান। এর পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয় এবং নতুন করে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

খাইরুল দেওয়ান ঢাকার রাজপথে মাইক হাতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি নিজেকে ‘জনকল্যাণ পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, তোপখানা ও হাইকোর্ট এলাকায় তার বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সে সময় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি। পরে নির্বাচন ভবনের সামনে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এসব ভিডিও ও বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে নিয়ে অসংখ্য মিম ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও পরে জনকল্যাণ পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন খাইরুল দেওয়ান। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে কর্মসূচি পালন এবং শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় থাকেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না থাকায় প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন, যা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
খাইরুল দেওয়ানের পূর্বপুরুষের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায়। সরকারি চাকরিজীবী বাবার কারণে দেশের বিভিন্ন সরকারি কোয়ার্টারে তার বেড়ে ওঠা। বর্তমানে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ আব্দুল্লাহপুর কুচিয়ামোড়া এলাকায় বসবাস করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই অতীতে তার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা, ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং ভাইরাল ভিডিওগুলোর কারণে খাইরুল দেওয়ানের নাম আবারও আলোচনায় চলে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার মধ্যেও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available