আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ আট বছর ধরে জাপানে চাকরি করছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী আব্দুল। এতদিন দেশটিকে নিজের ঘরের মতোই মনে হতো তার। কিন্তু জাপানের সরকার যেভাবে প্রবাসীদের জন্য স্থায়ীভাবে থাকার নিয়ম কানুন কঠিন করছে, তাতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
স্ত্রীসহ উত্তর টোকিওতে থাকা আব্দুল জানান, স্থায়ীভাবে থাকার আবেদন বাতিল হলে তাকে হয়তো বাধ্য হয়ে জাপান ছেড়ে অন্য কোনো দেশে চলে যেতে হবে।
জাপানের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। এখন থেকে স্থায়ীভাবে থাকতে চাইলে আয় হতে হবে জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি, জানতে হবে ভালো জাপানি ভাষা এবং থাকতে হবে অন্তত ৩০ বছরের পেনশনের টাকা জমা রাখার হিসাব।
সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রবাসীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে, যাতে তারা দেশের জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ান। কেবল আব্দুলই নন, বহু বছর ধরে জাপানে থাকা আমেরিকান নাগরিক সারাহ নেলকিনের মতো অনেকেই এখন স্থায়ী আবাসন পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
গবেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত জাপানের নিজের জন্যই ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং জন্মহার কমে যাচ্ছে, ফলে সেখানে প্রচুর শ্রমিকের অভাব রয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রবাসীর সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখন যদি সরকার প্রবাসীদের স্থায়ী হওয়ার রাস্তা কঠিন করে দেয়, তবে কাজের জন্য বিদেশি দক্ষ কর্মীরা আর জাপানে আসতে আগ্রহ দেখাবে না।
মূলত জাপানের রাজনীতিতে ডানপন্থী দলগুলোর প্রভাব বাড়ার কারণেই এই পরিবর্তন আসছে। সরকারের নতুন নীতিতে বলা হচ্ছে, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের নিয়ে এসে দেশে সামাজিক ঝামেলা বাড়াতে চান না তারা। এমনকি সাধারণ জাপানিদের মধ্যেও প্রবাসীদের প্রতি মনোভাব আগের চেয়ে কঠোর হচ্ছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি জাপানি এখন চান না যে তাদের দেশে আরও বেশি বিদেশি আসুক। এসবের ফলে জাপানে থাকা হাজার হাজার প্রবাসী এখন মানসিক চাপে ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দিন কাটাচ্ছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available