ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। নিরাপদ ও সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারে পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।
এবার বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থতর ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যথাযথভাবে যুক্ত করার ওপর এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও জলবায়ুজনিত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন।
ফার্মাসিস্টরা শুধু ওষুধ সরবরাহের কাজেই সীমাবদ্ধ নন। ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতা তৈরি এবং ওষুধবিষয়ক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের সভাপতি পল সিনক্লেয়ার বলেন, পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ দেওয়া হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।
এবারের দিবসে সরকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের প্রতি ফার্মাসিস্টদের জন্য সহায়ক নীতি তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে পালিত হয়। ১৯১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে সংগঠনটির পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহ চালু করে। এর মাধ্যমে ফার্মাসিস্টদের পাশাপাশি ওষুধবিজ্ঞানী, ফার্মেসি প্রযুক্তিবিদসহ ফার্মেসি খাতের বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদান তুলে ধরা হয়।
ফার্মাসিস্টরা প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
এ ছাড়া ওষুধের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস তাই শুধু একটি পেশাকে সম্মান জানানোর দিন নয়; বরং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের অবদান তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় তাদের দক্ষতা ও ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available