পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জজকোর্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন নিহতের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। দ্রুত তদন্ত শেষ করে সাত দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে বিক্ষুব্ধ স্বজন, সহপাঠী ও সাধারণ মানুষ প্রথমে পাবনা জজকোর্ট ঘেরাও করেন। এ সময় তারা কলি হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার এবং মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সেটি ঘেরাও করেন। সেখানে তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে হবে। একই সঙ্গে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিল করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিক্ষোভে কয়েকজন বক্তা পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবেদনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা তথ্য গোপন করা হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ সময় তারা সিভিল সার্জনের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন।
এ ছাড়া কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অবস্থান নেওয়ার হুমকিও দেন কয়েকজন বক্তা।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন বক্তা ক্ষোভের একপর্যায়ে আসামিদের নিজের হাতে শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে তারা নিজেরাই কলির মত টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে আসামির বাড়ি ভেঙে সেখানে কলির নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার করা হবে বলেও জানান তারা।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, নিহত কলির বাবা কামাল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেলসহ কয়েক হাজার মানুষ।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামির যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্ছ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে শুক্রবার ও শনিবার দিনভর হামলা ও ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ লোকজন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বহুতল ভবনটির প্রায় ৯০ শতাংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। রোববারও বাড়িটিতে ভাঙচুর চলছিল বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পাবনা তিনি বলেন, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন। পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available