জামালপুর প্রতিনিধি: প্রেমের সম্পর্কের পর করেছেন বিয়ে। একসময় স্বামীর হাত পুড়ে গেলে নিজের কষ্টের কথা ভুলে ছুটে গিয়েছিলেন রিক্তা আক্তার। অভাবের সংসার, হাতে টাকা নেই। তবু যেভাবেই হোক স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তখন তার মনে একটাই কথা ছিল, বিপদে দুজন দুজনের পাশে থাকবেন। কিন্তু, সেই ভালোবাসার সংসারেই একদিন নেমে আসে নির্মমতা।
রিক্তার অভিযোগ, স্বামী ওবায়দুর ইসলাম তার মুখ গরম ডালের মধ্যে চেপে ধরেন। এতে মুখের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। চিকিৎসা নিলেও সেই পোড়া দাগ আর মুছে যায়নি। বরং, মুখের ক্ষত বাড়িয়েছে তাদের দূরত্ব।
শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেছে ১০ বছরের সংসার। এক মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। মুখের পোড়া দাগের সঙ্গে প্রতিদিন তাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ভেঙে যাওয়া সংসারের স্মৃতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
রিক্তা আক্তারের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় গ্রামে। তার স্বামী ওবায়দুর ইসলাম একই উপজেলার জোনাইল পক্ষমারী এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে। ২০১৬ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে— ইমরান হাসান (৯) ও রোজমনি (৩)।
রিক্তা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরে ওবায়দুর জোর করে গরম ডালের মধ্যে রিক্তার মুখ চেপে ধরেন। এতে তার মুখের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। পরে চিকিৎসা নিলেও পোড়া দাগ রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “মুখ পুড়ে যাওয়ার পর আমাকে আগে চেয়ে আরো বেশি কষ্ট দিতো। তবু, আমি সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু, সে আমাকে তালাক দিলো।”
রিক্তার কণ্ঠে এখনো সেই পুরনো ভালোবাসার কথা। তিনি বলেন, “ওর হাত যখন পুড়েছিল, তখন আমি নিজের কথা ভাবিনি। অভাবের সংসারেও যতটা পেরেছি, চিকিৎসা করিয়েছি। ভেবেছিলাম, বিপদে-আপদে আমরা একসঙ্গে থাকব। তাকে কতটা যে ভালোবাসতাম, তা বলে প্রকাশ করার মতো ছিল না। সে তাও আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি তো সংসার করতে চাই।”
সংসার ভেঙে গেলেও সেই ঘরের প্রতি টান কাটেনি রিক্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে আবারও স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, সন্তানদের কথা ভেবে হয়তো একদিন ফিরে আসবেন ওবায়দুর।
তবে সেই প্রত্যাশার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের আশাতেও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রিক্তা। তিনি জানান, এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার পুলিশ ওবায়দুর ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
সংসার হারানোর ক্ষত আর মুখের পোড়া দাগ নিয়েই দিন কাটছে রিক্তার। তবু, সব অভিমান পেরিয়ে তার চাওয়া একটাই— দুই সন্তানকে নিয়ে আবারও সেই ঘরে ফিরতে চান, যে ঘর একদিন ভালোবাসা দিয়ে গড়েছিলেন।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেছেন, “আদালত থেকে গ্রেফতারের নির্দেশনা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী ওবায়দুরকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।”
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available