জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা আর পাওনাদারদের নির্মম চাপ সইতে না পেরে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক অসহায় বিধবা মহিলা জোসনা বেগম। ষাটোর্ধ্ব জোসনা বেগমের এই করুণ আকুতি স্তব্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এনজিওর কিস্তি আর দেনাদারদের ভয়ে এখন বাড়িছাড়া এই নারী।
বকশীগঞ্জ উপজেলার সূর্যনগর গ্রামের এই বিধবা নারীর চোখে এখন শুধুই অন্ধকারের পথ। প্রায় দুই বছর আগে মারা যান স্বামী আবদুল খালেক। কিন্তু মৃত্যুর আগে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে জোসনা বেগমকে জড়াতে হয় বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে।
জোসনা বেগম বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে সব শেষ করছি বাবা। এখন প্রতিদিন কিস্তির মানুষ আইসা চিল্লাই-পাল্লাই করে। পাওনাদারদের ডরে নিজের বাড়িতে ঘুমাইতে পারি না, পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানো লাগে। এই ঋণের টাকা শোধ করার আর কোনো পথ নাই আমার, তাই নিজের কিডনি বেঁচে দিতে চাই।
স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে আগেই হারিয়েছেন শেষ সম্বলটুকু। বর্তমানে আয়ের কোনো উৎস না থাকায় প্রতিদিনের এনজিওর কিস্তি আর সুদের টাকার তাগাদায় দিশেহারা তিনি। মামলার ভয় আর মানসিক যন্ত্রণায় প্রায়ই তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয় বাড়ি ছেড়ে। নিরুপায় হয়েই তাই নিজের শরীরের অঙ্গ বিক্রির এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা মুকুল মিয়া বলেন, খালেক ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে এই পরিবারটা একদম ভাইঙ্গা পড়ছে। প্রতিদিন মানুষ আইসা টাকার জন্য চিল্লাচিল্লি করে। একটা বুড়া মানুষ কই যাইবো, কী খাবো? ওনার এই কিডনি বিক্রির কথা শুনে আমাদের খুব কষ্ট লাগতেছে, সরকারের উচিত ওনাকে সাহায্য করা।
স্থানীয়রা বলেন, ঋণের এমন নিষ্ঠুর চক্রে পড়ে অঙ্গ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা পুরো এলাকার জন্য লজ্জাজনক। এই অসহায় বিধবাকে বাঁচাতে এবং ক্ষুদ্র ঋণের এই অমানবিক চাপ থেকে তাকে মুক্ত করতে বিত্তবান ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available