লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।
১০ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন গ্রামের তিন শতাধিক কৃষক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় কৃষকরা ‘সার দে, কৃষি বাঁচাও’, ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ’, ‘মরলে কৃষক মরবে দেশ’- এসব স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।
পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
মদাতি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, সার ডিলারদের দোকানে দিনের পর দিন ঘুরেও চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি দোকান ঘুরে ইউরিয়া ও ডিএপি সার পেলেও টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। আমন ধান চাষের এ সময়ে টিএসপি সারের খুব প্রয়োজন। কিন্তু বাড়তি টাকা খরচ করে সার কেনার সামর্থ্য তাদের নেই।
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ফসল উৎপাদন করে আমরা লাভ করতে পারছি না। তার ওপর ঠিকমতো সার না পেলে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে হবে। কৃষিকাজ ছাড়া আমরা অন্য কোনো কাজও জানি না।’
তুষভান্ডার গ্রামের কৃষক নবিয়ার রহমান বলেন, আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে সব ধরনের সারের সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে টিএসপি সারের সংকট সবচেয়ে তীব্র। আগের বছরগুলোতে এমন পরিস্থিতি হয়নি। চাহিদামতো সার না পাওয়ায় আমন খেতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘আমন আমাদের জন্য লাভজনক ফসল। কিন্তু চাহিদামতো সার না পেলে এবার লোকসান গুনতে হবে,’ বলেন তিনি।
দলগ্রাম এলাকার কৃষক নাজির হোসেন বলেন, ‘দুই-তিন বছর আগেও সারের জন্য কোথাও ধর্ণা দিতে হয়নি। সব সময় চাহিদামতো সার পেয়েছি। এখন সার ডিলারদের দোকানে ঘুরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আলু চাষে লোকসান হয়েছে। ভুট্টা ও ধান চাষে কোনো রকমে পুঁজি তুলেছি। সারের অভাবে আমন চাষ ব্যাহত হলে আমাদের আরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
কাকিনা এলাকার কৃষক শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘সারের দাবিতেই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। ইউএনও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে চাহিদামতো সার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সময়মতো সার না পেলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।’
তবে সার ডিলারদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কালীগঞ্জের সার ডিলার সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে যতটুকু সার আমরা পাচ্ছি, ততটুকুই সরকারি নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছি। আমরা কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করি না এবং বেশি দামে সার বিক্রিও করি না।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে টিএসপি সারের চাহিদা বেশি। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম। সরকার সরবরাহ বাড়ালে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের সারের ঘাটতি ও ক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত সারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে চাহিদামতো সার পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সার ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা সার বিক্রিতে অনিয়ম করলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমিও সার ডিলারদের দোকানগুলো মনিটরিং করব।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available