পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামে গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে।
ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানি হালদার দাবি করেছেন, আত্মহত্যার পেছনে পরকীয়ার কোনো বিষয় ছিল না; বরং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মানসিক চাপই এ ঘটনার কারণ। একইসঙ্গে নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানান, তারা কখনো পরকীয়ার কোনো বিষয় জানতে পারেননি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সজল কুমার দেউরীর মৃত্যুর পর একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরকীয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রতিহিংসাবশত এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকেও এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানি হালদার বলেন, “আমার সঙ্গে স্বামীর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার সাত-আট দিন আগে থেকে দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে আমার স্বামীর জায়গা-জমি এবং ঘর ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতিই ছিল এই আত্মহত্যা। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এক সময় আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে সংসারের অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু দেবর সুজিত কুমার দেউরী ও জা রাত্রি রানির পক্ষ নিয়ে শাশুড়ি প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন। আমার স্বামী কখনই সংসার আলাদা করতে চাননি।”
রঞ্জিতা রানির অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার ও ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছোট মেয়েকে নিয়ে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে গেলে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাই তখনই সেটি করতে চাননি। এ নিয়ে কয়েকদিন সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।”
পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শোভন আমার বন্ধু। আমরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছি। তাকে সন্দেহ করার মতো কোনো কারণ আমি দেখিনি। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো আমাদের চোখে কোনো আপত্তিকর বিষয় পড়েনি। শোভনও আমাদের বাড়িতে তেমন আসত না।”
নিহতের মা লক্ষ্মী রানি দেউরী বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল আমার বড় ছেলে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে আত্মহত্যা করবে, তা কখনো ভাবিনি। পরকীয়ার বিষয়টি ছেলের মৃত্যুর পর শুনেছি। মৃত্যুর আগে এমন কোনো বিষয় আমাদের নজরে আসেনি।”
তিনি আরও জানান, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার ইচ্ছা তাদের নেই।
উল্লেখ্য, নিহত সজল কুমার দেউরী নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কলে স্ত্রী রঞ্জিতা রানি ও মা লক্ষ্মী রানি দেউরীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চললেও আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available