• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:৫৮:২১ (23-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

মণিরামপুরে বাজারে নেই মূল্য তালিকা, ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

২৩ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১৪:০১

মণিরামপুরে বাজারে নেই মূল্য তালিকা, ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ দোকানে নেই সেই তালিকা। আর এ সুযোগে দোকানিরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা। ফলে একই পণ্যের দাম দোকানভেদে ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার মণিরামপুর পৌর বাজার, ঝাঁপা বাজার, রাজগঞ্জ, গোপালপুর, চিনেটোলা ও লেহালপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজি, মাছ, মাংস, ফল, মুদি সামগ্রী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে কোনো মূল্য তালিকা টানানো হয়নি। ফলে ক্রেতারা নির্ধারিত দাম সম্পর্কে ধারণা না পেয়ে দোকানিদের ওপরই নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Ad
Ad

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৩৮নং ধারা অনুযায়ী, দোকান বা প্রতিষ্ঠানে সহজে দেখা যায় বা বোঝা যায় এমন স্থানে মূল্য তালিকা টাঙানো না হলে বা প্রদর্শন করা না হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

Ad

কিন্তু এ বিধান শুধু কাগজে-কলমেই শোভা পাচ্ছে। বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। যার ফলে সঠিকভাবে অনেকেই মানছেন না নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শনীর সরকারি নির্দেশনা।

দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, এক দোকানে আলু ২০ টাকা, পাশের দোকানে ৩০ টাকা। দাম জিজ্ঞেস করলেই অনেকে রাগ করে। তালিকা থাকলে এ সমস্যাটা হতো না।

গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, তালিকা না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম নেন দোকানদাররা। তেল, আটা, লবণ সবকিছুর দাম দোকান ভেদে আলাদা।

এ বিষয়ে এক দোকানি বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম ওঠানামা করে। প্রতিদিন তালিকা দেওয়া কঠিন। তবে আমরা বেশি দাম নেই না। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই স্বীকার করেন মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা তাদের বাধ্যবাধকতা।

বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারদর সবসময় এক থাকে না। সকালে এক দাম আবার বিকেলে হয়ে যায় আর একদাম। যেভাবে পণ্যের দাম ওঠানামা করে, তাতে প্রতিদিন আমাদের পক্ষে তালিকা সংশোধন সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেক পণ্য মাঝে-মধ্যে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমেও বিক্রি হয়। তাই তালিকা টাঙানোর গুরুত্ব থাকে না।

সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা বাড়ানো হলে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। আর মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখলে ব্যবসায়ী–ক্রেতা উভয়পক্ষই প্রতিদিনের অযথা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।

স্থানীয় শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মূল্য তালিকা না থাকলে ব্যবসায়ীরা অসাধু সুযোগ নেবেই। নিয়মিত তদারকি ছাড়া বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না।

সামাজিক সংগঠনের কর্মী হাফিজুর বাবু বলেন, বাজারে মূল্য তালিকা থাকলে ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ই স্বচ্ছতার মধ্যে থাকবে। প্রশাসনের উচিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, মূল্য তালিকা না থাকলে ক্রেতারা ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মণিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ব্যাপারে জনগণকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



ফের আমির হামজাকে আইনি নোটিশ
ফের আমির হামজাকে আইনি নোটিশ
২৩ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১২:০৪

এবার ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত
এবার ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত
২৩ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১০:৩৫








Follow Us