মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও মারধরের পর নাজমা আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
১৮ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর কাশাদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা আক্তার শিবালয় মডেল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেক পেয়াদারের মেয়ে। তিনি একটি তালা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে ১৭ এপ্রিল রাতে তার বাবার বাড়িতে একটি সালিশ বসানো হয়। স্থানীয় মাতব্বর আজিজ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে নাজমা ও এক যুবককে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।
পরদিন সকালে নাজমা কর্মস্থলে গিয়ে বিকেলে বাড়ি ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নাজমার স্বজনদের দাবি, সালিশের নামে প্রকাশ্যে অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন।
নিহতের মা নাসিমা বেগম বলেন, সবার সামনে আমার মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। এই অপমান সে সহ্য করতে পারেনি। আমি এর বিচার চাই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সালিশে জড়িতরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই ভয়ে মুখ খুলছেন না। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি (তদন্ত) মানোবেন্দ্র বালো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available