• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৮শে শ্রাবণ ১৪৩৩ রাত ১০:১১:০৪ (12-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

সদরপুরে বিয়ের ফাঁদে ইমাম, প্রতারণার অভিযোগ লাবিবার বিরুদ্ধে

৮ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৯:৪৩

সদরপুরে বিয়ের ফাঁদে ইমাম, প্রতারণার অভিযোগ লাবিবার বিরুদ্ধে

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার এক নারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিয়ের আড়ালে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

৮ মার্চ রোববার দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আরিফ বিল্লাহ বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুর উপজেলার লখারকান্দি গ্রামের লুথফর রহমান মোল্লার মেয়ে লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে-ওমায়ের (৬), আবদুল্লাহ (৫) ও মোহাম্মদ উল্লাহ (৪)।

তার অভিযোগ, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে সেই সুযোগে লাবিবা বাসা থেকে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। এ সময় তাদের ছোট সন্তানরা ঘরে একা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আরিফ বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা (এসপি-৮১/২২) এবং অপরটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা আক্তার এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ মার্চ নগরকান্দা উপজেলার গজগাহ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে লাবিবার বিয়ে হয় এবং ওই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা এক মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাকে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় এবং পরে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আরিফ বিল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহের নাটক করে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় রোকছানা বেগমের কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্যার কাছে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

আরিফ বিল্লাহ জানান, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর আদালতে দ্বিতীয়বারের মতো একটি সিআর মামলা (নং-২৩৩) দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে ছাড়াও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট ভাইদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তার পরিবারের মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

এ ঘটনায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ






চাকরি হারালেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
চাকরি হারালেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
১২ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:০৪:৪০


মালয়েশিয়ায় ৩৭০ বাংলাদেশি আটক
মালয়েশিয়ায় ৩৭০ বাংলাদেশি আটক
১২ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৮:১২