রাজশাহী ব্যুরো: পবিত্র রমজান শুরুর আগে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি হালি লেবু ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খেজুর ও শসার দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। লেবু কিনতে গিয়ে অনেককেই বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।


গত সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজিপ্রতি ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে কম দামের ‘প্রেম’ খেজুর ২২০–২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের খেজুর, যা আগে ৪০০–৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০–৫৩০ টাকায়। মরিয়ম খেজুরের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার টাকা কেজি। ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।
শসার দামও বেড়েছে ২০–৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫০–৭০ টাকা।
বর্তমানে বাজারে বেগুন ৫০–৮০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ১৬০–১৮০ টাকা কেজি, টমেটো ৬০–৮০ টাকা কেজি, লাউ ৫০–৬০ টাকা প্রতি পিস, নতুন করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। পালং শাক ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে রয়েছে আলু, যা ২০ টাকার নিচে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার করতে আসা মাহিনুর বলেন, ‘রমজান এলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দুই দিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৭০ টাকা।’
আরেক ক্রেতা রহিম আলী বলেন, ‘রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই।’
লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সাহেব বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী মো. লালন আলী বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। কম দামের খেজুরেই বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।’
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয়মূল্যের রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available