রাজশাহী ব্যুরো: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হওয়ার কথা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব কিছু ঠিক থাকলে মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পারমাণবিক কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই চালুর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছাবে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফিজিক্যাল' স্টার্টআপের পর ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ১,২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে ৮-১০ মাস সময় লাগতে পারে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্য ভাগে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সময় সূচি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টস্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) কর্মকর্তারা জানান, ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এরপর রিঅ্যাক্টর স্টার্টআপ ও পানি গরম করার ধাপ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন। ধাপে ধাপে ট্রায়াল অপারেশন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।


২০১৬ সালে প্রাথমিক ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ি, প্রথম ইউনিট ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবায়ন বিলম্ব ও যন্ত্রাংশের মুল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় আরও ২৬ হাজার ১৮১.২৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রতিটি ইউনিট থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৭৩.৬২ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৭৪.২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তঃসরকার চুক্তির। অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ার এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে দুটি ইউনিট নির্মাণ, সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি সই করে।
প্রথম ইউনিটের সফল ট্রায়াল শেষে ২০২৬ সালের শেষের দিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। ট্রায়াল অপারেশন চলাকালিন বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও তা পূর্ণাঙ্গ বা নিয়মিত নাও হতে পারে। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পরই উৎপাদন স্থিতিশীল হবে।
অপারেশনাল পরিকল্পনা অনুযায়ি, উৎপাদন প্রথমে মোট সক্ষমতার ১০ শতাংশ, তারপর ৪০, ৭০ এবং সবশেষে ১০০ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের যেকোনো ধাপে ত্রুটি ধরা পড়লে সময়সূচি পুননির্ধারণ করা হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available