লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৮০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে আশাতীত।

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি ফসলি জমি হলুদের চাদরে ঢাকা। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে এবং গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামাল হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষা চাষে কৃষকদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় ১৮০৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৫০, রায়পুর উপজেলায় ২৬০, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮০, রামগতি ৪৩৫ ও কমলনগর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন কৃষকরা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, এ বছর ৪০ শতক জমিতে সয়াবিন চাষ করেছেন। এবার ফলন ভালো হলেও গত বছরের তুলনায় এবার শ্রমিক মজুরি অনেক বেশি লেগেছে। তার ওপর বাজারে কীটনাশকের দামও চড়া।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের কৃষক সোলায়মান ও কাশেম। তারা জানান, সার ও কীটনাশকের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে সরিষার বাজারমূল্য ভালো না পেলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সালাহ উদ্দিন জানান, ‘স্বল্পমেয়াদি এই ফসলটি চাষ করে কৃষকরা যাতে বাড়তি আয় করতে পারেন, সেজন্য আমরা বিশেষ প্রণোদনা ও উন্নতমানের বীজ সহায়তা দিয়েছি। শ্রম ও উপকরণের দাম কিছুটা বাড়লেও ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি, ভালো ফলন ও বর্তমান বাজার দর বজায় থাকলে কৃষকরা শেষ পর্যন্ত লাভবানই হবেন।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available