• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২২শে পৌষ ১৪৩২ বিকাল ০৪:২১:২৪ (05-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

আগাম তরমুজ লাভের স্বপ্ন চাষীদের, মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

৪ জানুয়ারী ২০২৬ দুপুর ০২:৫৫:৪১

আগাম তরমুজ লাভের স্বপ্ন চাষীদের, মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ভালো ফলন ও লাভবান হওয়ার আশায় মৌসুম শুরুর আগেই ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে আগাম তরমুজ চাষে নেমেছেন পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা।

Ad

জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, দুমকী, রাঙ্গাবালী ও সদর উপজেলার উপকূলীয় চর ও বালুমাটির এলাকায় এখন চারা রোপণ ও খেত পরিচর্যায় তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Ad
Ad

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর চরাঞ্চলে সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ থেকে তরমুজ আবাদ শুরু হয়ে এপ্রিল মাসে ব্যাপক উৎপাদনে পৌঁছে। ২০০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে তরমুজ আবাদ শুরু হলেও ২০১২–১৪ সালের পর থেকেই এটি ব্যাপক ও বাণিজ্যিক আকারে উৎপাদিত হতে থাকে। বর্তমানে তরমুজ পটুয়াখালীর অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জেলায় তরমুজের আবাদ ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ১৪,২৩৬ হেক্টর আবাদি জমিতে ৪,৯৮,২৬০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হয়। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে আবাদি জমি বেড়ে ২২,৮৯০ হেক্টর এবং উৎপাদন দাঁড়ায় ৮,৬৯,৮২০ মেট্রিক টনে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮,৭৪৫ হেক্টর জমিতে ১০,০৬,০৭৫ মেট্রিক টন তরমুজ পাওয়া যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবাদি জমি কমে ২৩,৬০০ হেক্টর হলেও উৎপাদন ৭,০৮,০০০ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাদি জমি বেড়ে ২৭,৩২৬ হেক্টর এবং উৎপাদন ৮,৭৪,৪৩২ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রস্তুত না হলেও আবাদি জমি ও উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে আগাম তরমুজের দাম তুলনামূলক বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ঝুঁকি নিয়েই অনেকেই আগেভাগে চাষ শুরু করেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে চারা রোপণ শেষ করেছেন, আবার অনেকে চারা তৈরি ও জমি প্রস্তুতির কাজ করছেন। আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত রোপণ কার্যক্রম চলবে বলে জানান তারা।

দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি হানিফ শরীফ বলেন, তিন বছর ধরে তরমুজের চাষ করছি। গত বছর ১০ একর এবছর ১২ একর জমিতে তরমুজ দিয়েছি। একটু আগাম চাষ শুরু করেছি যাতে সঠিক সময়ে লাভের মুখ দেখা যায়। আমাকে বিচি দেয় নাই তবে বিভিন্ন পদের ৩৫ কেজি সার পেয়েছি যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বলইকাঠী গ্রামের খোকন হাওলাদার জানান, ছয় বছর ধরে তরমুজের আবাদ করছি। প্রথমদিকে প্রায় দেড় একর জমি থেকে শুরু করলেও এখন সাড়ে পাঁচ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করছি। প্রাকৃতিক বিপদ আপদ না থাকলে তরমুজ চাষ লাভজনক। তরমুজ চাষ করে আমি লাভে আছি তবে আমি কখনো সরকারি সুবিধা পাইনি। আগাম চাষ করলে দামটাও ভালো পাওয়া যায় এবং ঝড়-বৃষ্টি থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

তবে লাভের সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। কৃষকদের মতে, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাব, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ আগাম তরমুজ চাষের বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া মৌসুমে একসঙ্গে বেশি তরমুজ বাজারে এলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগাম তরমুজ চাষে সফল হতে হলে জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং রোগবালাই দমনে সতর্কতা জরুরি। আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ ও মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাহাদাত হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চাষীরা আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেছে। সারের কোনো সংকট নেই এবং বীজের মান ভাল হওয়ায় এবছর ফলন ভাল আসবে বলে আশা করছি।

জেলা কৃষি বিভাগ আরও জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারদরের ওঠানামা এ খাতের বড় ঝুঁকি হিসেবেই রয়ে গেছে।

কৃষকদের আশা, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগাম তরমুজ চাষ তাদের আর্থিকভাবে লাভবান করার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ









দৌলতখানে সরকারি খাস জমি উদ্ধার
দৌলতখানে সরকারি খাস জমি উদ্ধার
৫ জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৩:১২:৪৭



Follow Us