• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:১৪:৫৪ (30-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

শুরু হয়েছে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম, ছুটছেন জেলেরা

৪ নভেম্বর ২০২৪ সকাল ১১:০৩:৩৮

শুরু হয়েছে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম, ছুটছেন জেলেরা
ফাইল ছবি

বাগেরহাট প্রতিনিধি: শুরু হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি তৈরির মৌসুম। শুঁটকি পল্লীতে ফের শুরু হবে কর্মব্যস্ততা। জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা নিয়ে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা করছে জেলারা। জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলে-মহাজনেরা। সাগরে যেতে যে যার মতো প্রস্তুত করেছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়েছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে চলে এসেছেন মোংলা পশুর নদীর পাড়ে।

আজ ৪ নভেম্বর সোমবার সকালে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়,  দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হয়ে যাবেন জেলেরা। আগামী ৫ মাস তারা সেখানে থাকবেন। তৈরি করবেন বিভিন্ন জাতের মাছের শুঁটকি।

দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। আলোরকোল, হলদিখালি, কবরখালি, মাঝেরকিল্লা, অফিসকিল্লা, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয় এবং মেহের আলির চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত।

আরও পড়ুন

রংপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ মাছের খাদ্য জব্দ, দুই ফিড ব্যবসায়ীকে জরিমানা

দুবলার চরে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে তোলেন সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই কমাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে শুঁটকি পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) কন্যাম্পশন ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পান, এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব।

শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। বরং দিন দিন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে ইতোমধ্যে পুঁজি ও জাল-নৌকা হারিয়ে এ পেশা হারিয়েছেন অনেক জেলে।

আরও পড়ুন

বড়াইগ্রামে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

এ বিষয়ে জেলেরা বলছেন, চড়া সুদে টাকা নিচ্ছেন সুদের কারবারিদের কাছ থেকে। কেউবা টাকা গ্রহণে এনজিও, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে ঋণ করছেন। ঋণ, সুদের বোঝার সঙ্গে এমন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই ৫ মাসের এক অনিশ্চিত জীবন শুরু করতে চলছেন তারা। 

এ বিষয়ে বহদ্দার শুভংকর হালদার এশিয়ান টেলিভিশনকে বলেন, প্রতি বছর আমরা বিভিন্নভাবে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। এবছরও পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ করেই সাগরে যাচ্ছি। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই না।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিলো, এখন আছে কিনা তা জানি না। তবে শুনেছি জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত নাকি আবার বেড়েছে।

আরও পড়ুন

জামালপুরে মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

এ বিষয়ে নিতাই হালদার নামের এক জেলে এশিয়ান টেলিভিশনকে বলেন, আমরা বনবিভাগের পাস নিয়েই সাগর পাড়ের দুবলার চরে রওনা  হই।  ধার দেনা করেই আমাদের যেতে হয় এ সাগরে। তবে অনেকে এবার সুদে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় স্বর্ণের জিনিস রেখে টাকা আনতে হয়েছে। দীর্ঘদিন সাগরে দস্যুদের উৎপাত না থাকলেও এবার নাকি দস্যুদের দেখা যাচ্ছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই যাত্রা শুরু করি আমরা হাজার হাজার জেলেরা এ দুবলা চরে।

এ বিষয়ে জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল এশিয়ান টেলিভিশনকে বলেন, পাস পারমিট হাতে পাওয়ার পর জেলেরা ৩ রোববার সন্ধ্যায় পরবর্তী থেকে সকল জেলেরা দুবলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। জেলেরা এখান থেকে সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়েই গেছেন বা যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম এশিয়ান টেলিভিশনকে বলেন, বনবিভাগের কাছ থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে নিজ নিজ এলাকা থেকে রওনা হয়ে জেলেদের সরাসরি যেতে হবে দুবলার চরে। চরে ঘর বাড়ি বা দোকান পাট তৈরি করার জন্য সুন্দরবনের কোনো গাছ কাটতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সোনারগাঁয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৬ কোটির মতো। এবারও আমাদের আশা আছে, প্রায় সাড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আদায়ের।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

পাবনায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩
পাবনায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩
৩০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১৩:০৮

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু
৩০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১১:৪৯

‘এক্স-ম্যান’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট আর নেই
‘এক্স-ম্যান’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট আর নেই
৩০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:০৩:১২

আমির খসরুর সঙ্গে জাপানের অর্থমন্ত্রীর বৈঠক
আমির খসরুর সঙ্গে জাপানের অর্থমন্ত্রীর বৈঠক
৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:৫১:৫৯





রাজধানী থেকে ককটেলসহ গ্রেফতার ২
রাজধানী থেকে ককটেলসহ গ্রেফতার ২
৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:২২:২১

একদিনে হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু
একদিনে হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু
৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৮:২০