• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ রাত ০৩:০৫:১৪ (29-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

কেক-পেস্ট্রির রমরমা ব্যবসা, নেই উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ

১১ জুলাই ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭:০০

কেক-পেস্ট্রির রমরমা ব্যবসা, নেই উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ

নাসির উদ্দিন টিটু, কেরানীগঞ্জ: কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারসহ অলি গলিতে থাকা বেকারি ও কনফেকশনারিতে থরে থরে সাজানো রয়েছে বাহারি রং ও ডিজাইনের জন্মদিনের কেক ও পেস্ট্রি। বিএসটিআই’র লাইসেন্স ও নীতিমালা অনুসরণ করে এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করার নিয়ম থাকলেও কোনো প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই উৎপাদন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিন্মমানের ডালডা ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে কেক ও পেস্ট্রি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লোভনীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পাকস্থলী ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এতসব অনিয়ম থাকার পরেও উপজেলা স্যানেটারি অফিসার কোনো প্রকার তদারকি ও কারখানায় পরিদর্শন না করেই টাকার বিনিময়ে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে গণ্য করে দিয়েছেন ফুড সার্টিফিকেট।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুসুম বেকারি এন্ড কনফেকশনারী, শৈলী বেকারি এন্ড কনফেকশনারী, ডরিন বেকারি এন্ড কনফেকশনারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে একাধিক শোরুম তৈরি করে বাহারি কেক ও পেস্ট্রি বিক্রি করছে। তবে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে থাকা কেকের মধ্যে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের কোনো তারিখ নেই। বিএসটিআই কিংবা নিরাপদ খাদ্য সংস্থার কোনো অনুমোদন না থাকলেও বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের কেক পেস্ট্রির সাথে পাল্লা দিয়ে চড়া দামেই এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে এ সমস্ত কেক পেস্ট্রির চাহিদা বেশি ও অধিক মুনাফা হওয়ায় নামি দামি কনফেকশনারির পাশাপাশি পাড়া মহল্লার বিভিন্ন কনফেকশনারিগুলোতে কেক ও পেস্ট্রি বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে তাদের নিজস্ব কোনো কারখানা নেই। এরা বাইরে থেকে কিনে এনে এ সমস্ত লোভনীয় কেক ও পেস্ট্রি বিক্রি করছে। কীভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে এই কেক ও পেস্ট্রি, সে সম্পর্কে বিক্রেতাদের কোনো ধারণাও নেই।

আরও পড়ুন

সোনারগাঁয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

অনুসন্ধানে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট অলিনগর আবাসিক এলাকার ভেতরে পাওয়া গেছে এমন একটি কারখানার সন্ধান। সেখানে ফ্লাট বাসা ভাড়া নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিম্নমানের ডালডা, পঁচা-ফাটা ডিম, মেয়াদ উত্তীর্ণ বেকিং পাউডার ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে কেক ও পেস্টি।

এখানকার কর্মরত কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা প্রতিদিন দুই শতাধিক কেক তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন কনফেকশনারিতে সরবরাহ করেন। তিন দিনের মধ্যে কেক বিক্রি করতে না পারলে সেটা কনফেকশনারি থেকে ফেরত নিয়ে এসে আবার নতুন কেক সরবরাহ করা হয়। পরে পুরাতন কেকগুলো কারখানায় এনে উপরের ক্রিমের অংশ ফেলে দিয়ে সেগুলো আবার নতুন করে আটার সাথে মিশিয়ে পুনরায় কেক তৈরি করা হয়। এ ধরনের বেশ কিছু কেক ও পেস্ট্রি তৈরির কারখানা কদমতলী এলাকার গোলাম বাজার, তেঘরিয়া স্ট্যান্ড বাজার এবং আটি বাজারে রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ডরিন বেকারি এন্ড কনফেকশনারির আগানগর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইমাম হোসেনের সাথে আলাপকালে কেক পেস্ট্রি এবং বেকারি পণ্য উৎপাদন করতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন প্রয়োজন সেটা আপনাদের আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জিনজিরা শাখায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাজী মোহাম্মদ শামীমের শ্বশুর ও প্রধান ম্যানেজার আনিসের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

ডরিন বেকারি এন্ড কনফেকশনারীর প্রধান ম্যানেজার মো. আনিস বলেন, ‘আমাদের সমস্ত কাগজপত্র আছে। আর প্রতিদিনের তৈরি করা পণ্য প্রতিদিন বিক্রি করি, তাই কোন তারিখ দেওয়ার প্রয়োজন নাই।’

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে ডরিন বেকারি এন্ড কনফেশনারী নামের প্রতিষ্ঠানটির কোনো কাগজপত্র নেই। এমনকি উপজেলা অফিস থেকে নিরাপদ খাদ্যের কোনো সার্টিফিকেটও দেয়া হয়নি প্রতিষ্ঠানটিকে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্যানিটারি অফিসার শাহীনুর রহমান বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ একটি অত্যান্ত জনবহুল ও বিশাল আয়তনের একটি উপজেলা। উপজেলার সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তদারকি করা সম্ভব না। যতটুক সম্ভব আইন এবং নিয়ম মেনেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্যের সার্টিফিকেট দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

তবে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করে এবং খাদ্যের গুণগতমান ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা ছাড়াই কীভাবে প্রতিবছর সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয়, তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

সার্বিক বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রিয়াদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। খুব দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিরাপদ খাদ্য আইন (২০১৩) ও ভোক্তা অধিকার আইন (২০০৯) ধারা অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কীভাবে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্যের সার্টিফিকেট দিল বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:২২:৪৩






ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৪:৫৬