বকশিগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গারো পাহাড়ের পাদ দেশে সীমান্তাঞ্চল ও চরাঞ্চলে এবার চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক কৃষাণীর মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।
এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন সীমানাবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ভুট্টা চাষে কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।


ভুট্টা চাষে খরচ কম। ভালো ফলন, দাম ও লাভ বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি বলে দাবি কৃষি বিভাগের। সেই আশায় সীমান্তাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকেরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও।

উপজেলায় এবার বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। বকশিগঞ্জ কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বকশিগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ২ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ৫ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। এবার বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টা ৫৩ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হতে পরে যা দেশের চাহিদা পূরণের পর বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
গাজীর পাড়া গ্রামের কৃষক সেকান্দর গাজী জানান, এবার ৬ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার পাতা গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি। তাতে আমাদের গবাদি পশু খাদ্য নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা করতে হয় না। এ উপজেলায় এবার ভুট্টা চাষ বেশি করা হয়েছে। ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও বেশি থাকে। তাই কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছে।
কৃষক আমজাত আলী জানান, কৃষি অফিস থেকে যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে, সেই বীজ না লাগিয়ে বাজার থেকে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা লাগানো হয়েছে। অফিস যে সার দেয় তা পর্যাপ্ত নয়। তাই খুচরা বাজার থেকে সার ও কীটনাশক কিনে ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে বাজারে সার ও কীটনাশকের দাম কম হলে সবার জন্য ভালো হতো।
বকশিগঞ্জ উপজেলা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষকরা যেন সহজে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেলের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হবে এবং চাষ ও গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভুট্টার চাষ বেশি হওয়ায় ইরিবুরো ধান কম হয়েছে এই উপজেলায়। তবে এই হারে ভুট্টা চাষ হলে রীতিমতো হুমকির মুখে পড়তে পরে খাদ্যশস্য।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available