• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ০১:৪৮:০৩ (10-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ হচ্ছে বুটেক্স, হল ত্যাগের নির্দেশ

সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ হচ্ছে বুটেক্স, হল ত্যাগের নির্দেশ

বুটেক্স প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আদেশ মোতাবেক ৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ছুটি ও ১২ মার্চ থেকে আবাসিক হলসমূহ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।৯ মার্চ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শবে কদর, জুমাতুল বিদা, পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ৯ মার্চ হতে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এসময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিল এবং লেভেল-১ টার্ম-১ এর ভর্তির সাক্ষাৎকারসহ সকল ঘোষিত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আগামী ৭ এপ্রিল ভর্তির সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ আগামী ১২ মার্চ হতে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের আগামী ১১ মার্চ রাত ৮টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ সকাল ৬টা থেকে আবাসিক হলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ছুটির সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রশাসনিক দপ্তর সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসন শাখা, অর্থ ও হিসাব দপ্তর, অডিট সেল, আইসিটি সেল এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের জরুরি কার্যক্রম ৯ মার্চ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত সীমিত আকারে চালু থাকবে। পাশাপাশি ছুটিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, যানবাহন ও ইউটিলিটি সেবাসমূহ সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তবে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে কিছু শিক্ষার্থী ভোগান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ৪৮তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আজিজ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, “প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য ২২ রমজানের পর ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ১১ তারিখের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় বাস ও ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে টিকিট সংগ্রহ করা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।”জি. এম. এ. জি ওসমানী হলের ৫০তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী জান্নাতুল আহসান নাঈম বলেন, “হঠাৎ করে হল বন্ধের সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছে। অনেকেই ১৩–১৪ তারিখের ট্রেন বা বাসের টিকিট আগে থেকেই কেটে রেখেছে। যদি ১২ তারিখ থেকেই হল বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এই দুই দিন তারা কোথায় থাকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া হলে অনেক হিন্দু শিক্ষার্থী আছেন, যারা ঈদের সময় বাড়ি যান না, তাদের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত ছিল।”লেভেল-১ টার্ম-১ ভর্তির সাক্ষাৎকার স্থগিত হওয়ায় বেশ কিছু ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তাই তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন পূর্বনির্ধারিত তারিখেই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।এ বিষয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট মো. মোতাকাব্বির হাসান (তমাল) বলেন, “হল ভ্যাকেন্ট হবার বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক সুবিধা বিবেচনাপূর্বকই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমি শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবো।”ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়, জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে আগামী ১০ মার্চ নির্ধারিত ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে ৭ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আবাসিক হলগুলোও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই সুযোগ দিতে ১২ মার্চ থেকে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই।”