• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:০৯:৫৯ (02-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সবুজ পাহাড়ে হলুদের বাম্পার ফলন

সবুজ পাহাড়ে হলুদের বাম্পার ফলন

রাঙামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চলতি মৌসুমে হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে।কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর প্রায় ২ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন। যার বাজারমূল্য প্রায় ২শ’ কোটি টাকা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় রাঙামাটির বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জমিতে প্রতিবছর ব্যাপক হারে হলুদের আবাদ হচ্ছে। কম খরচ, কম শ্রম এবং বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের কাছে হলুদ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।মৌসুমের শেষদিকে এসে বাজারে শুকনো হলুদের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি মণ শুকনো হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫০ টাকা দরে।ব্যবসায়ীরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের হলুদের রঙ, স্বাদ ও সুগন্ধ ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা রাঙামাটিতে এসে হলুদ কিনে নিয়ে যান। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে এই মশলা।ব্যবসায়ীদের মতে, ডলার সংকটের কারণে বিদেশ থেকে মশলা আমদানি কমে যাওয়ায় দেশীয় হলুদের চাহিদা বেড়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলুদের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষকদের জন্য সুখবর।রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বছর রাঙামাটিতে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন হলুদ উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি পাইকারি দাম ২০০-২২০ টাকা। পাহাড়ে হলুদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন আরও বাড়বে এবং মাটি ক্ষয়ও কমবে।’তিনি আরও জানান, পাহাড়ি পতিত জমিতে হলুদের চাষ বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে মসলাজাতীয় ফসলের চাষ বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ে হলুদ চাষ দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় সাড়ে ১০ হাজার টন হলুদ উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২শ’ কোটি টাকা।