রমজানে রোজা পালনে কীভাবে সুস্থ থাকবেন, কী খাবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক: রমজান মাসে রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ও পানীয় গ্রহণে বিরতি শরীরে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।রোজা শরীরে কী প্রভাব ফেলে?আবহাওয়া ও রোজার দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে অনেকেই হালকা পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। এর ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। শর্ত হলো ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে।যারা নিয়মিত চা বা কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে ক্যাফেইন ঘাটতির কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে শরীর এ পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়।ইফতারে কীভাবে খাবেন?দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে খাওয়া ভালো। প্রথমে পানি বা লেবুর শরবত দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। স্যুপ, ফল বা হালকা খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করলে শরীর সহজে মানিয়ে নেয়। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।সাহরিতে কী খাবেন?সাহরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ দিনের দীর্ঘ সময় শক্তি ও তরল জোগাতে সাহরির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আটা বা পূর্ণ শস্যজাত খাবার, ডাল, মটরশুটি, ডিম, দুধ বা দই, ফল ও শাকসবজি, বাদাম এসব খাবার দীর্ঘসময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমায়।তরল ও ফাইবারের গুরুত্বইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ফল, শাকসবজি, দই, স্যুপ ও স্টুর মতো তরলসমৃদ্ধ খাবার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার তৃষ্ণা বাড়ায়, তাই তা এড়িয়ে চলা ভালো।খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এ জন্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন ভুসিযুক্ত আটা, উচ্চ ফাইবার সিরিয়াল, ফল, শাকসবজি, ডাল ও শুকনো ফল খাওয়া উচিত। ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলাও উপকারী।খেজুরের উপকারিতাখেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত। এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি পটাশিয়াম, তামা, ম্যাঙ্গানিজসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও ফাইবার রয়েছে। এছাড়া এপ্রিকট, ডুমুর, কিশমিশ ও আলুবোখারার মতো শুকনো ফলও পুষ্টিকর।কারা রোজা থেকে বিরত থাকতে পারেন?ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা ও রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই তারা রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।