স্পেন-আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে এলো আসল কারণ
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল স্পেনের ফুটবলারদের। তবে উদযাপনের সেই মুহূর্তই রূপ নেয় উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে প্রকাশ্যে এসেছে ঘটনার নেপথ্যের কারণ।জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনাকে ঘিরে। ম্যাচ জয়ের পর প্রতিপক্ষের সামনে রদ্রির উচ্ছ্বাস প্রকাশকে ভালোভাবে নেননি মলিনা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত মুখোমুখি অবস্থানে গড়ায়।পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া। তিনি মলিনাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এ সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঘটনাস্থলে এসে গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।সতীর্থকে ধাক্কা খেতে দেখে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভি এগিয়ে এসে পারেদেসকে ধাক্কা দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পারেদেসও গাভিকে ধাক্কা দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা গাভিকে শক্তভাবে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। অভিযোগ রয়েছে, গাভি উঠে দাঁড়ানোর পর পারেদেস আবারও তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এতে মাঠজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে স্পেনের স্ট্রাইকার বোর্হা ইগলেসিয়াস এগিয়ে এসে প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই দলের কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা ও সিনিয়র খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা। তবে এ বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।