• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৬ই মাঘ ১৪৩২ দুপুর ০১:৪১:৫০ (29-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
স্কোয়াশ সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে নবীনগরে

স্কোয়াশ সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে নবীনগরে

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: শীত মৌসুম এলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মাঠ-ঘাট ভরে ওঠে নানান রঙের শাকসবজিতে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ-কুমড়ার সঙ্গে এবার নতুন করে নজর কেড়েছে এক বিদেশি সবজি— স্কোয়াশ। দেখতে অনেকটা শসার মতো হলেও পুষ্টিগুণ, স্বাদ আর লাভের দিক থেকে এই সবজি এখন কৃষকদের কাছে আশার নতুন নাম।উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ও দ্রুত ফলনশীল স্কোয়াশ চাষ করে নবীনগরের কৃষকরা ইতোমধ্যে ভালো লাভের মুখ দেখছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষে যেখানে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা, সেখানে ১০০ দিনের মধ্যেই লাভ হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ কারণেই দিন দিন এই সবজির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের চাষ শুরু হয়েছে। বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া এই সবজি চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করে তিনি ইতোমধ্যে চোখে পড়ার মতো ফলন পেয়েছেন।কুদ্দুস মিয়া জানান, বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই তিনি প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি ফলন পান। তার ভাষায়, ‘স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও তেমন নেই। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায়। এখন বাজারে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’তার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের কৃষকরাও।স্কোয়াশ চাষে এগিয়ে আসছেন নারী কৃষকরাও। নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে পারিবারিক উদ্যোগে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘কম সময়ে ফলন পাওয়া যায় বলে আমি আশাবাদী। পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ‘স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এ ফসলের জন্য বেশ উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ কিংবা পতিত জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করেও কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।’