• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৩:৫২:২১ (21-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অনলাইন ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে।২১ অক্টোবর বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। সবাইকে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে— এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।এসময় রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সব দর্শনার্থী এবং অতিথির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এটিভি/এসটিও