সেতু খুলে নিয়ে যাওয়া সেই চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো ভালো সেতু খুলে নিয়ে যাওয়া সেই ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে এর সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর ওই নোটিশে।মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মন্ডলের ছেলে।৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।তিনি বলেন, ‘ওই চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ইট ও লোহা তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমরাও জানি না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। আইনগতভাবে কাজটি উনি ঠিক করেননি। সে কারণে তাকে এ নোটিশ করা হয়েছে। তিন কর্ম দিবসের মধ্যে এ জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষ জনক না হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বলেও জানান ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি।এ বিষয়ে কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডলের সাথে। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘ক্যানো আমি সেতুটি ভাংছি সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে।’ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘কী বলি ভাই, সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। সেখানে কিছুই নেই। আর এটা এমনটা নয় যে আমি রাতের আঁধারে নিয়ে এসেছি। বিষয়টি সবাই জানেন। তাছাড়া তছরুপও করি না। যাতে করে না হারায় সে কারণে বাড়িতে রেখেছিলাম। স্যার এখন পরিষদে রাখতে বলেছেন। সে কারণে মালামালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাচ্ছি।’উল্লেখ্য, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন একটি সেতু ছিলো। পুরাতন হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু মাস খানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে ইট ও লোহাগুলো চেয়ারম্যান তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। সে কারণে চার গ্রামের প্রায় বিশ হাজার লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন।