সিফাত আব্দুল্লাহর দাবি করা বিলের সঙ্গে আসল বিলের গরমিল: পল্লীবিদ্যুৎ
ডেস্ক রিপোর্ট: অসহনীয় লোডশেডিং ও ‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সিফাত আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেছিলেন, দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। তবে গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্তে তার দাবির সঙ্গে বিলের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে।সিফাত আব্দুল্লাহর দাবি ছিল, গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। তবে গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবার নাম মো. সেকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মিটার (নম্বর: S000433*7)-এ মে মাসে ৪৫ ইউনিট ব্যবহারের বিল এসেছে ৩১৭ টাকা, জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা। অর্থাৎ চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।অন্য একটি মিটার (নম্বর: S000218*5)-এ মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের বিল ২ হাজার ৩৯৭ টাকা। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।তৃতীয় মিটারটিতে (নম্বর: S000424*7) মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের বিল ১ হাজার ৩৬২ টাকা এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজীপুর পল্লীবিদ্যুতের বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল যাচাইয়ের পাশাপাশি বাসায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে গেট বন্ধ করে দেন।পল্লীবিদ্যুতের বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আহসান কবীর বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিলটি তদন্ত করেছি। তার বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বেশি বিল করা হয়নি।’সূত্র: দেশ রূপান্তর