• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩ রাত ১০:২৯:৪৩ (19-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
সাপের ছোবলের শিকার ওঝা, চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে

সাপের ছোবলের শিকার ওঝা, চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে

ডেস্ক রিপোর্ট: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন (৩৮) নামে এক সাপুড়ে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার বাসিন্দা এবং মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি নিজেকে সাপুড়ে ও ওঝা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।স্থানীয় সূত্রে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোলাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের একটি গর্ত খুঁড়ে প্রথমে তিনটি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করেন। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ বের করে ধরার চেষ্টা করলে অসাবধানতাবশত সেটি তার হাঁটুর ওপর ছোবল দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান জানান, আগের দিন একই বাড়ির বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। এরপর শুক্রবার আবারও বাড়িতে সাপ দেখা দিলে আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা তাকে খবর দেন। তিনি জানান, গোখরা সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিট পর অসাবধানতাবশত সেটি তাকে কামড় দেয়।এ ঘটনার পর ইমরানের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডে তিনি নিজেকে সাপুড়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসার দাবি করেছেন।কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পর ইমরানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাকে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।