শৈত্যপ্রবাহে পাবনায় শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ
পাবনা প্রতিনিধি : শৈত্যপ্রবাহের সাথে পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে শ্রমজীবী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে হার কাঁপানো শীতে কৃষি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি ও দিনমুজুরসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবিরা বেশি সমস্যায় পড়েছে।পাবনার ৯টি উপজেলার আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, পাবনা সদর, ফরিদপুর, বেড়া, ভাঙ্গুড়া, সাঁথিয়া এবং সুজানগরের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে। ওই সকল শ্রমজীবী মানুষ চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ রোপণ করাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাছাড়া অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ সময় শ্রমিকের মজুরীও বেশি। অন্য মৌসুমে শ্রমিকরা কাজ করে প্রতিদিন ৫০০/৬০০ টাকা পেলেও চলতি এই মৌসুমে কাজ করলে প্রতিদিন ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে করেন। কিন্তু পৌষের হাড়কাঁপানো শীতের পাশা-পাশি শৈত্যপ্রবাহের কারণে শ্রমিকেরা কাজে যেতে পারছেন না।পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক মাজেদ মোল্লা বলেন, তীব্র শীতের কারণে কেউ তাদের কাজে নিচ্ছেনা। এদের মধ্যে কোন কোন শ্রমিক কাজ পেলেও অসহনীয় শীতের কারণে ২/৩ ঘন্টা কাজ করেই বাড়ি ফিরে আসছেন। আর সে কারণে মজুরীও পাচ্ছেন কম।এদিকে সুজানগর উপজেলার হাটখালি গ্রামের ভুক্তভোগী শ্রমিক রজব খাঁ বলেন, গতকাল মাঠে পেঁয়াজ রোপণ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে ২/৩ ঘন্টা কাজ করেই বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে। আর ২/৩ ঘন্টা কাজ করার কারণে মজুরীও পেয়েছি কম।আমরা মাঠে কাজ করি দিন আনি দিন খা্ই খুব কষ্টে আছি।এ দিকে পাবনার বড় বাজার, লাইব্রেরী বাজার এলাকায় চোঁখে গায়ে জীর্ণ পোশাক, হাতে বাঁশের ঝাকা ও কোদাল নিয়ে কাকডাকা ভোরে দাড়িয়ে আছেন কিছু মানুষ। তবে ক্ষুধা আর দারিদ্র্যতার নির্মম আঘাতে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। কাজ না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছে বাড়িতে পরিবার নিয়ে দুর্দিন যাপন করছেন তারা।