রূপগঞ্জে সাংবাদিক মাহিন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের পর ছাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম মাহিনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের পর তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।৯ মার্চ সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।মাহিন স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক ঘোষণা’র রূপগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি। এছাড়া তিনি পূর্বাচল প্রেসক্লাবের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং কর্ণগোপ এলাকায় ‘মাহিন ফার্মেসি’ পরিচালনা করেন।জানা যায়, দোকানের জন্য পানির বোতল আনতে একটি হোস্টেলের ভেতরে গেলে ফেরার পথে ৮–১০ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তারা তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক দুইটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।অপহরণের পর তাকে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কুশাব এলাকায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। সেখানে অপহরণকারীরা তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার স্ত্রী প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাঠালে অপহরণকারীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।এ সময় অপহরণকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ব্যক্তিগত সিমে থাকা বিকাশ এজেন্টের টাকাসহ প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও রূপগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নাজমুল হুদা এবং পূর্বাচল প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল ইসলামের অনুরোধে পুলিশের তিনটি ফোর্স ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পরে রাত ১১টার দিকে মাহিনকে নিরাপদে মুক্তি দেওয়া হয়।এ ঘটনায় মাহিনের স্ত্রী মাকসুদা রহমান রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।এ সময় সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ বলেন, যদি নির্বাচিত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলের বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার দৃঢ় ভূমিকা দাবি করছেন।